🔺🔺#কারা_গাধা_এবং_গরু 🐴🐄? (অবশ্যই পড়বেন)
সাধারণত দেখে থাকবেন, যারা খুব হিসাবি মানে টাকা পয়সা একদমই খরচ করতে চান না, তাদেরকে আমরা কৃপণ বা কিপ্টা বলে অভিহিত করে থাকি। কিন্তু কৃপণ শব্দটির প্রকৃত অর্থ শাস্ত্রে এরকম বুঝানো হয় নি।
* তাহলে প্রকৃত 'কৃপণ' কাদেরকে বলা হয়? দেখে নিন.........
#বৃহদারণ্যক্_উপনিষদে (৩/৮/১০) এ বলা আছে,
"যো বা এতদক্ষরং গার্গ্যবিদিত্বাস্মাল্ লোকাৎ প্রৈতি স কৃপণঃ।
#অর্থাৎ শ্লোকটির বিশ্লেষণ করলে আমরা এর অর্থ পাই, "যে মানুষ তার মনুষ্য জীবনের সমস্ত সমস্যার সমাধান করে না এবং আত্মতত্ত্ব উপলব্ধি না করে কুকুর-বেড়ালের মতো এই জগৎ থেকে বিদায় নেয়, সেই হচ্ছে কৃপণ।
তাহলে আজ থেকে আমরা তাদেরকেই কৃপণ বলব যারা ভগবানের ভক্তি করে না, যারা অমূল্য এই মানবজন্ম পেয়ে তার সদ্ব্যবহার করতে যারা ব্যর্থ।
ঠিক আছে...........
#আমরা আমাদের ভৌগোলিক পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের গাধা এবং গরু দেখতে পাই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে তারাই কি একমাত্র গাধা বা গরু নাকি আরো আরেক শ্রেণীর এরকম প্রজাতি রয়েছে?
অবশ্যই রয়েছে....... খুব ভালো করে তাদেরকে দেখুন!
#শ্রীমদ্ভাগবতে (১০/৮৪/১৩) এই ধারণাকে খুব সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেখানে বলা হচ্ছে,
"যে ত্রিধাতু সমন্বিত এই জড় দেহকে পরম প্রেমাস্পদ আত্মা, স্ত্রী-পুত্রাদিকে আত্মীয়, পার্থিব জন্মস্থানকে পূজনীয় মনে করে এবং তীর্থস্থানে গিয়ে কেবলমাত্র নদীতে স্নান সেরে চলে আসে, কিন্তু পারমার্থিক জ্ঞানসম্পন্ন সেখানকার মানুষদের সঙ্গে ভগবৎ-তত্ত্ব আলোচনা করে না, সে একটি #গাধা_অথবা_গরু।
আরো ক্লিয়ার করে বলছি, মন দিয়ে শুনুন.......
#পয়েন্ট_১: আমাদের প্রত্যেকের দেহ মাটি, জল, বায়ু, অগ্নি এবং আকাশ এই পাঁচটি উপাদান দিয়ে গঠিত। কিন্তু আমাদের প্রকৃত পরিচয় আমরা স্বরূপে চিন্ময় আত্মা, যার কোনো বিনাশ নেই কখনোও। আমরা যে দেহ নিয়ে অহংকার করছি সেটা তো একদিন পুড়ে ছাঁই হয়ে যাবে। তাই তো? কিন্তু আমরা বোকামির মত ত্রিধাতু সমন্বিত এই জড় দেহকেই প্রকৃত বলে মনে করছি। প্রকৃত স্বরূপ যে আত্মা আর সেটাই আমার রিয়েল আইডেনটিটি সেটা আমরা ভুলে গেছি, সেকারণেই আমরা হয়ত গাধা নয়ত গরু।
#পয়েন্ট_২: আমরা স্ত্রী-পুত্রকে আত্মীয় বলে মনে করছি। ভাল কথা, মেনে নিলাম। কিন্তু তারা যখন দেহত্যাগ করে তখন আমাদের আত্মীয় কোথায় যায়? চিন্তা করুন.......... এটাকে বলে চর্মরোগ, মানে দেহের বা চর্মের ভিত্তিতে এই আত্মীয়তার বন্ধন গড়ে ওঠে এবং এই বন্ধনের ফলে জীব অত্যন্ত ক্লেশদায়ক ভবযন্ত্রণা ভোগ করে।
#অপরদিকে আমার প্রকৃত আত্মীয় বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণ এবং পতিতপাবন শ্রীগুরুদেব। আমরা প্রত্যেকেই বাসুদেব পরিবারের সন্তান, এটাই প্রকৃত পরিচয় আর কোনো পরিচয় আমাদের নেই। কারণ তারাই আমাদের উদ্ধার করতে পারেন আর আমরা এ তত্ত্বগুলো বুঝি না বলেই গাধা বা গরু।
#পয়েন্ট_৩: আমরা প্রত্যেকেই বিভিন্ন জায়গায় জন্মগ্রহণ করি এবং সেই জন্মস্থানকেই ভালবাসতে শুরু করি। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এটা কি আমার আসল ঠিকানা? নিজেকে যাচাই করুন.......আমরা প্রত্যেকেই এমনকি সামান্য একটি পিপীলিকারও প্রকৃত ঠিকানা গোলক বৃন্দাবন। আর সেটা ভুলে আমরা পার্থিব জন্মস্থানকে পূজা করছি পক্ষান্তরে মুক্তি তো দূরের কথা, ফলশ্রুতিতে আবদ্ধ হয়ে রয়েছি। সেজন্যই আমরা আসল গাধা এবং গরু।
#পয়েন্ট_৪: অনেকেই বিভিন্ন তীর্থস্থানে যান, সেখানে কেবল স্নান বা দর্শন করেই চলে আসেন। কিন্তু সেই তীর্থ স্থানের মহিমা বা সেখানে কোনো ভগবৎ-তত্ত্ব আলোচনা করেন না, তাহলে কিছু লাভ কি হল?.........যেমন আপনি যখন সুনামগঞ্জের পণতীর্থ ধামে যাবেন স্নান করতে আপনাকে জানতে হবে এখানে শ্রীঅদ্বৈত আচার্য ঠাকুর আবির্ভূত হয়েছিলেন, আপনি যখন নবদ্বীপ ধামে যাবেন আপনাকে জানতে হবে সেই স্থান চৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব স্থল। যখন মথুরায় যাবেন জানতে হবে এটা শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান, যখন একচক্র ধামে যাবেন জানতে হবে এটা শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুর আবির্ভাব স্থান।
#আপনি যখন সিলেটের ঢাকা দক্ষিণ ধামে যাবেন জানতে হবে এখানে মহাপ্রভুর পৈতিক ভিটা। সেখানে জগন্নাথ মিশ্র এবং মাতা শচী দেবী বসবাস করতেন। যখন বৃন্দাবনের বিভিন্ন স্থানে যাবেন জানতে হবে এই স্থানেই শ্রীমতি রাধারাণীর সাথে ব্রজেন্দ্রনন্দন শ্রীকৃষ্ণ লীলাবালাস করেছিলেন। এসব তত্ত্ব আপনাকে জানতে হবে এবং বিভিন্ন তীর্থ স্থানে গিয়ে সেখানকার জ্ঞানসম্পন্ন মানুষদের সাথে ভগবৎ-তত্ত্ব আলোচনা করতে হবে। তাহলেই আপনি প্রকৃত মানুষ, নাহলে গাধা অথবা গরু।
#তাই, মানুষরূপী গাধা এবং গরু থেকে মুক্তি পেতে অবশ্যই পয়েন্টগুলোর সত্যতা এবং শাস্ত্রীয় প্রমাণস্বরূপ নিজ পলকে যাচাই করবেন। প্লিজ মনুষ্য জন্মের গুরুত্ব বুঝুন এবং অন্তিমে ভগবদ্ধামে ফিরে যান।
👏, শাস্ত্রের আলোকে নোটস করার চেষ্টা করেছি মাত্র। কেউ কোনো কথায় কষ্ট পেলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে অবলোকন করবেন।
Post a Comment